February 24, 2024

ধানের শীষ নিয়ে এমপি হতে চান যেসব আইনজীবী

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে চায় না দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে মাঠে সরব দলটি। এখন এক দফার আন্দোলনে তারা। কর্মসূচি দিচ্ছে একের পর এক। অন্যদিকে ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী মাঠও গোছাচ্ছে বিএনপি তথা সরকারবিরোধীরা। তাদের মত, হঠাৎ যদি দেশে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হয় তখন যেন বিপাকে পড়তে না হয়! এজন্য ধানের শীষ প্রতীকে ভোটের মাঠে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে। এক্ষেত্রে পেশাজীবী হিসেবে পিছিয়ে নেই আইনজীবীরাও।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে নিজ নিজ এলাকায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপিপন্থি অর্ধশতাধিক আইনজীবী। সিনিয়র থেকে শুরু করে তরুণ আইনজীবীরাও রয়েছেন এই ভোটের রাজনীতির চেষ্টায়। তাদের দাবি আগের সংসদগুলোতে আইনজীবীদের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে আইনজীবীদের মনোনয়ন কম দেওয়া হচ্ছে। তাই তারা এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে চান।

মনোনয়নপ্রত্যাশী আইনজীবীরা দলকে বোঝাচ্ছেন যেহেতু সংসদে আইন প্রণয়ন হয় তাই এমপি হিসেবে আইনজীবীদের প্রাধান্য থাকা উচিত। সংসদে আইনজীবীদের সংখ্যা বেশি থাকা দরকার। কারণ, আইনজীবীরা আইন সম্পর্কে বেশি জ্ঞান রাখেন এ দাবিতে তারা সংসদে গিয়ে অবদান রাখতে চান।

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে চান এমন বেশকিছু আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা আইনজীবী হিসেবে আইন প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য এমপি হতে চান। দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা যে কোনো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দল থেকে মনোনয়ন পেলে তারা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

মনোনয়নপ্রত্যাশী আইনজীবীরা দলকে বোঝাচ্ছেন যেহেতু সংসদে আইন প্রণয়ন হয় তাই এমপি হিসেবে আইনজীবীদের প্রাধান্য থাকা উচিত। সংসদে আইনজীবীদের সংখ্যা বেশি থাকা দরকার। কারণ, আইনজীবীরা আইন সম্পর্কে বেশি জ্ঞান রাখেন এ দাবিতে তারা সংসদে গিয়ে অবদান রাখতে চান।

প্রথমত হলো আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে দল কিংবা আমরা নির্বাচনে যাবো না, এটা হলো সত্য কথা। এছাড়া নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হলে দল নির্বাচন করলে আমি অবশ্যই প্রার্থী হবো। আশা রাখি আইনাঙ্গনে বা অন্যান্য স্থানে আমাদের যে কর্মসূচি এবং উপস্থিতি অবশ্যই দল সেটি মূল্যায়ন করবে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে অন্য দল এবং প্রধান দুই দলের সঙ্গে জোটভুক্ত হওয়া দলগুলোর অনেক আইনজীবী নেতাও সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ও ল’ইয়ার ফ্রন্ট থেকে এবারের নির্বাচনে অর্ধশত আসন না হলেও কাছাকাছি আইনজীবীরা মনোনয়ন পেতে পারেন।

জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদে আইনজীবীর সংখ্যা ছিল অর্ধশত। একাদশ সংসদেও ৩৫ জনের বেশি সংসদ সদস্য আইনজীবী। এখন দ্বাদশ সংসদে কতজন আইনজীবী থাকেন সেটাই দেখার পালা।

তবে, দলীয়ভাবে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার যাদের সম্ভাবনা রয়েছে তারা হলেন ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট গাজী মো. কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিঙ্কু, ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, ব্যারিস্টার রাজিব প্রধান, ব্যারিস্টার ফজলুল করিম মন্ডল, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন, অ্যাডভোকেট গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, আইনজীবী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান। তাদের দাবি বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন তো অবশ্যই করবেন। তবে তারা ছাড়াও আরও অনেক আইনজীবীর বিএনপি থেকে মনোনয়ন নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝালকাঠি-১ (কাঁঠালিয়া-রাজাপুর) আসনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. শাহজাহান ওমর বীর উত্তম সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে পারেন। শাহজাহান ওমর বীর উত্তম মুক্তিযুদ্ধের পর মেজর হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছিলেন। ঝালকাঠি-১ সংসদীয় আসন থেকে তিনি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপরে চারদলীয় জোট গঠনের সময় ২০০১ সালে তিনি আইন প্রতিমন্ত্রী হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মোহাম্মদ শাহজাহান ওমর ছিলেন ৯ নম্বর সেক্টরের টাকি সাব-সেক্টরের কমান্ডার। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ত্যাগ ও বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়। বীর উত্তম খেতাবে তার সনদ নম্বর ১৭।

আমার কথা হলো আগামী দ্বাদশ নির্বাচন নিয়ে এখন যে আন্দোলন চলছে, যে দাবি ও পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, ওই পরিবেশ ও পরিস্থিতি যদি হয়, যদি আমার দল বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেয় তা হলে অবশ্যই নির্বাচন করবো।

নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হতে চান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নির্বাচিত সিনেট সদস্য। ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি নেত্রকোনা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালেও ওই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বরিশাল-৫ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য দলীয় মনোনয়ন নিতে আগ্রহী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এর আগে ২০০৮ সালে তিনি ঢাকার একটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি) থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদক।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) ঢাবির মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সাবেক এজিএস, হলের জেনারেল সেক্রেটারি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী মো. কামরুল ইসলাম সজল। তিনি গৌরনদী-আগৈলঝাড়া আসন থেকে ধানের শীষে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। দলে কিছুটা কোন্দল থাকলেও তার ওপর আস্থা আছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের। আইন পেশার কারণে ঢাকায় থাকলেও বিভিন্ন দিবস ও সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রায়ই তিনি এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ করছেন। আওয়ামী লীগ কিংবা তাদের জোটের বিপরীতে বিএনপির হয়ে ভোটযুদ্ধে জয়ী হতে দলকে সংগঠিত করার পাশাপাশি এলাকার মানুষের পাশেও দাঁড়াচ্ছেন তিনি। সে কারণে আলোচনায় রয়েছেন সজল।

কামরুল ইসলাম সজল জাগো নিউজকে বলেন, প্রথমত হলো আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে দল কিংবা আমরা নির্বাচনে যাবো না, এটা হলো সত্য কথা। এছাড়া নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হলে দল নির্বাচন করলে আমি অবশ্যই প্রার্থী হবো। তিনি বলেন, আশা রাখি আইনাঙ্গনে বা অন্যান্য স্থানে আমাদের যে কর্মসূচি এবং উপস্থিতি অবশ্যই দল সেটি মূল্যায়ন করবে।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়া ঘাট ধোবাউরা) আসনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি টিএইচ খানের ছেলে অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান। এর আগে ওই আসন থেকে তিনি দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও তিনি প্রার্থী হতে চান ওই আসনে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আফজাল এইচ খান। তিনি ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের নিউজ এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ভয়েস অব বাংলার সাংবাদিক ছিলেন।

আফজাল এইচ খান জাগো নিউজকে বলেন, আমার কথা হলো আগামী দ্বাদশ নির্বাচন নিয়ে এখন যে আন্দোলন চলছে, যে দাবি ও পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, ওই পরিবেশ ও পরিস্থিতি যদি হয়, যদি আমার দল বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেয় তা হলে অবশ্যই নির্বাচন করবো।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি তুখোড় বক্তা ও জনপ্রিয় নেতা। ২০০৮ সালের নবম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। এবারও ওই আসন থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ও সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হন।

১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সম্মিলিত বিরোধী দলের হয়ে তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বরিশাল-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও বার কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তাকে ওই আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

নোয়াখালী-১ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও বার কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট শাখা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম বদরুদ্দোজা বাদল বিএনপির মনোনয়ন চান।

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) উপজেলা মিলে সংসদীয় এ আসনটি গঠিত। টাঙ্গাইল সদর আসনের মতো জেলার রাজনীতিতে এ আসনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে দলের কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান আসাদ মনোনয়ন পেতে পারেন। তিনি এর আগেও এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

ঝিনাইদহ-৩ আসনে মনোনয়ন চান ছাত্রদলের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জাগো নিউজকে বলেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করছি। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরে যদি ভোটের পরিস্থিতি আসে এবং দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং আমাকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয় তাহলে অবশ্যই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবো।

পঞ্চগড়-২ চারদলীয় জোট সরকারের আমলে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার এবার নির্বাচন করবেন কি না নিশ্চয়তা নেই। তবে তার ছেলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ওই আসন থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

মাগুরা-১ বিএনপির সহ-সভাপতি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ওই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নিজ দলে কিছুটা কোন্দল থাকলেও তার ওপর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আস্থা আছে বলে জানা গেছে।

পাটগ্রামের এ বাসিন্দা আইনি পেশার কারণে ঢাকায় থাকলেও প্রতি সপ্তাহে এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ করছেন। আওয়ামী লীগ কিংবা তাদের জোটের বিপরীতে বিএনপির হয়ে ভোটযুদ্ধে জয়ী হতে দলকে সংগঠিত করার পাশাপাশি এলাকায় গরিব-অসহায়দের পাশেও দাঁড়ান তিনি। এলাকায় দুর্যোগে অসহায়দের পাশে দেখা যায় এই আইনজীবীকে। সে কারণে আলোচনায় আছেন ব্যারিস্টার হাসান রাজী।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। রাগীবের বাবা আব্দুর রউফ চৌধুরীর দেশ স্বাধীনে ভূমিকা ছিল অপরিসীম। রাজনীতিবিদ আব্দুর রউফ চৌধুরী ছিলেন নির্লোভ, সৎ ও সাদাসিধে জীবন যাপনকারী একজন মানুষ। তিনি দুবারের এমপি থাকাকালীন এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছেন। বাবার পথ ধরেই হাঁটতে চান তিনি। আসন্ন নির্বাচনে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নিবার্চনে অংশ নিতে চান ব্যারিস্টার রাগীব।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) থেকে বিএনপির মনোননয়ন নিতে পারেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন। তিনি প্রার্থী না হলে তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রার্থী হতে পারেন। একই আসন থেকে মনোনয়ন নিতে চান বিএনপির অন্য আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।

কুমিল্লা (সদর-৬) বিএনপি নেতা সাবেক মন্ত্রী আকবর হোসেনের ভাই ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাইয়ুমুল হক রিংকু মনোনয়ন পেতে পরেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

গাজীপুর-৩( শ্রীপুর) বিএনপির মানবাধিকার কমিটির সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফজলুল করিম মন্ডল এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। তিনি এলাকার দলীয় কর্মসূচি, সভাসমাবেশ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত। এছাড়া আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ময়দানে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে অংশ নিয়ে তিনি পরাজিত হন। এছাড়া অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জের একটি আসন থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পেতে চান।

সিলেট-৪ সীমান্তবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জ-জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট নিয়ে গঠিত। কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান সেলিম মনোনয়নপ্রত্যাশী।

ঝিনাইদহ-২ (হরিণাকুণ্ডু ও সদরের আংশিক) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ বিএনপির প্রার্থী হতে চান।

বরগুনা-২ থেকে বিএনপির মনোনয়ন চান অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিয়ন। এলাকায় পোস্টারিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বরিশাল-৫ আসনে (সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন) জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল এ আসনের মনোনয়ন পেতে চান। তিনি এর আগেও এ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

ঢাকা-১৯ ( সাভার-আশুলিয়া) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান এ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান বলে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সহ-সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তিনি সামাজিক সংগঠন নাবিক (নাগরিক বিকাশ ও কল্যাণ)-এর সভাপতি।

টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান। এর আগে ২০০১ ও ২০০৮ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান। এছাড়া তিনি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাথে ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়তে চান সাবেক সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ভাষাসৈনিক অলি আহাদের মেয়ে রুমিন ফারহানা। নিজেকে তরুণ প্রজন্মের প্রার্থী দাবি করা রুমিন দলের হারানো এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চান।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ঢাকা-১ আসন থেকে ধানের শীষের প্রতীক পেতে পারেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নানের মেয়ে ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে থাকার চেষ্টা করেন মেহনাজ মান্নান।
জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রত্যাশায় থাকা আইনজীবীরা জানান, সংসদে আইনজীবীদের প্রাধান্য থাকা উচিত। সংসদ হলো আইন প্রণয়নের জন্য। বর্তমানে সংসদে আইনজীবীদের বড় অভাব। সংসদে আইনজীবীর সংখ্যা বেশি থাকলে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা যাবে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *