February 26, 2024

রাশিয়া-ইউরোপ গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ইউক্রেনের কাজ: রিপোর্ট

ডেস্ক সংবাদ: রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহকারী নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে গত বছর যে বিস্ফোরণ হয়েছিল, তার নেপথ্যে ছিলেন ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনীর এক কমান্ডার। যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির দুটি সংবাদমাধ্যমের যৌথ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এ তথ্য। শনিবার (১১ নভেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরুর পর মস্কো-ইউরোপের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। এর কয়েকমাস পরেই রহস্যজনক বিস্ফোরণ ঘটে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে। এতে রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

বিস্ফোরণের পর থেকেই এর পেছনে কার হাত থাকতে পারে তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। আঙুল ওঠে রাশিয়া, ইউক্রেন, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের দিকেও। যদিও তাদের সবাই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তবে খ্যাতনামা মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং জার্মান আউটলেট ডার স্পিগেলের এক যৌথ অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে বিস্ফোরণের নেপথ্যে ছিলেন ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার রোমান চেরভিনস্কি।

ইউক্রেন ও ইউরোপের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং ওই অভিযান সম্পর্কে অবগত কয়েকজনের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৮ বছর বয়সী ওই ইউক্রেনীয় কমান্ডার মূলত সমন্বয়কের ভূমিকায় ছিলেন।

ছয়জনের একটি দলের জন্য রসদ এবং অন্যান্য সহায়তা তদারকির দায়িত্বে ছিলেন চেরভিনস্কি। দলটি মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রথমে একটি নৌকা ভাড়া করে। এরপর ডুবুরি সরঞ্জাম ব্যবহার করে পাইপলাইনের ওপর বিস্ফোরক স্থাপন করে।

বিস্ফোরণে নর্ড স্ট্রিম ১ এবং নর্ড স্ট্রিম ২-এর চারটি পাইপলাইনের মধ্যে তিনটিই ফেটে যায়। এর ফলে বাল্টিক সাগরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে এবং রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি, চেরভিনস্কি এই অভিযানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন একা করেননি। তিনি নিশ্চিতভাবে আরও ঊর্ধ্বতন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আদেশ পেয়েছিলেন।

অবশ্য এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রোমান চেরভিনস্কি। আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, নর্ড স্ট্রিম হামলায় আমার জড়িত থাকার বিষয়ে ভিত্তিহীন গল্প ছড়ানো হচ্ছে। এটিকে রুশ প্রোপাগান্ডা হিসেবে দাবি করেছেন তিনি।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণে তার দেশ জড়িত থাকার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন। গত জুনে তিনি জার্মানির বিল্ড সংবাদপত্রকে বলেছিলেন, আমি কখনোই এমনটি করবো না। তিনি এসব অভিযোগের প্রমাণ দেখতে চেয়েছেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *