February 29, 2024

মান্দার স্মৃতি বিজড়িত কুসুম্বা মসজিদ

নওগাঁ জেলার অন্যতম স্মৃতি বিজড়িত উপজেলা মান্দা। এই উপজেলায় প্রায় সাড়ে চারশ বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁর ঐতিহাসিক এই কুসুম্বা মসজিদ । নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের মান্দা ফেরিঘাট ব্রিজ থেকে পশ্চিম দিকে ৪০০ মিটার উত্তরে এই ঐতিহাসিক মসজিদ অবস্থিত।

নওগাঁ জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। রাজশাহী শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। স্থানীয়দের কাছে এর আরেক নাম কালাপাহাড়। কুসুম্বা মসজিদকে নওগাঁ জেলার ইতিহাস ও মুসলিম ঐতিহ্যের উজ্জ্বল নিদর্শন বলা হয়।

মসজিদের উত্তর-দক্ষিণ দিকে রয়েছে ৭৭ বিঘা বিশিষ্ট একটি বিশাল দিঘি। গ্রামবাসী ও মুসল্লিদের খাবার পানি, গোসল ও অজুর প্রয়োজন মেটানোর জন্য এ দিঘিটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এর পাড়েই তৈরি করা হয়েছে কুসুম্বা মসজিদ। কুসুম্বা মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ৫৮ ফুট লম্বা, চওড়া ৪২ ফুট। চারদিকের দেয়াল ৬ ফুট পুরু। মসজিদের সামনের দিকে রয়েছে তিনটি দরজা। মসজিদের চার কোনায় রয়েছে ৪টি মিনার। মিনারগুলো মসজিদের দেয়াল পর্যন্ত উঁচু। ছাদের উপর দুই সারিতে রয়েছে মোট ৬টি গম্বুজ। মসজিদটি সম্পূর্ণ গ্রানাইড পাথর দিয়ে তৈরি। লোকমুখে জানা যায় এ মসজিদটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৫৬ বছর।

মসজিদের প্রবেশদ্বারে বসানো ফলকে মসজিদের নির্মাণকাল লেখা রয়েছে হিজরি ৯৬৬ সাল(১৫৫৮-১৫৬৯খ্রিষ্টাব্দ)।আফগানি শাসনামলের শুর বংশের শেষদিকের শাসক গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহের আমলে সুলায়মান নামে একজন এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। সে হিসাবে মসজিদটির বর্তমান বয়স ৪৭৪ বছর।

বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে রাজশাহী জেলা পরিষদের ওভারশিয়ার সুরেন্দ্র মোহন চৌধুরী কুসুম্বা গ্রামের প্রাচীন ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি শিলালিপি আবিষ্কার করেন। শিলালিপিটি বর্তমানে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বরেন্দ্র জাদুঘরে রয়েছে। যে কেউ জাদুঘরে গেলে শিলালিপিটি দেথতে পারবেন।

১৮৯৭ সালের এক ভূমিকম্পে কুসুম্বা মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক মসজিদটি সংরক্ষিত। মসজিদটির মূল গাঁথুনি ইটের তৈরি হলেও এর বাইরের দেয়ালের সম্পূর্ণ অংশ এবং ভেতরের দেয়ালে পেনডেন্টিভের খিলান পর্যন্ত পাথর দিয়ে আবৃত।

বাংলাদেশের পাঁচ টাকার নোটে মুদ্রিত আছে এর ছবি। নিপুণ কারুকার্যময় এই মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন প্রায় শত শত মানুষ আসেন কিন্তু প্রতি শক্রবার হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে এই মসজিদে । দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক ইতিহাস ও ঐতিহ্যপ্রেমীরাও কুসুম্বা মসজিদ পরিদর্শন করতে আসেন। এখানে এসে দর্শনার্থীরা হারিয়ে যান প্রাক মুসলিম আমলের এই প্রাচীন কীর্তির মাঝে। তবে মসজিদটিকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাবে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে ওঠেনি।

দর্শনার্থী এবং মুসল্লিদের সুযোগ-সুবিধা, ওজু ও গোসলের জন্য লেক খনন করা হয়েছে। সম্প্রতি মসজিদের পশ্চিম পাশে ক্ষুদ্র পরিসরে একটি বিনোদন স্পট নির্মাণের কাজ চলছে। স্পটটি সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার জন্য পিকনিক স্পট ও দূরের দর্শনার্থীদের থাকার জন্য রেস্ট হাউজের ও ব্যবস্থা ও আছে।

রিপোর্টার,ফ্ল্যাশ নিউজ

তাহসিব আলম শাহ্

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *