February 24, 2024

বোরো ধানের উৎপাদন বাড়াতে ‘হাইব্রিড জাতে’ ঝুঁকছে সরকার

ডেস্ক সংবাদ: যে কোনো দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে খাদ্যনিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর খাদ্যনিরাপত্তা বলতে প্রথমেই আমরা বুঝি চালের নিরাপত্তা বা পর্যাপ্ত চালের জোগান। দেশে চালের উৎপাদন বাড়াতে নানান উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে হাইব্রিড জাতের ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে নেওয়া হয়েছে নানান পদক্ষেপ। হাইব্রিড ধান চাষে কৃষকদের প্রণোদনাও দিচ্ছে সরকার। এতে দেশে ধান-চালের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চালের উৎপাদন আগের চেয়ে কমার পূর্বাভাস করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। কারণ, অর্থবছরের শুরুতে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে কমেছিল আউশের উৎপাদন। তবে পূর্বাভাসের পরপরই বেশ অনুকূলে আসে দেশের আবহাওয়া। ফলে চলতি আমন মৌসুমে উৎপাদন আশানুরূপ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আসন্ন বোরো মৌসুমের উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে চায় সরকার। আউশের ঘাটতি এড়াতে প্রাথমিকভাবে আসন্ন বোরোর উৎপাদন তিন-চার শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেজন্য এ দফায় হাইব্রিড জাতের ধান চাষে দেওয়া হচ্ছে ‘বিশেষ গুরুত্ব’। এমনকি হাইব্রিড জাতের ধান চাষে কৃষক পর্যায়ে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।

আসন্ন বোরো মৌসুমের উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে চায় সরকার। আউশের ঘাটতি এড়াতে প্রাথমিকভাবে আসন্ন বোরোর উৎপাদন তিন-চার শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেজন্য এ দফায় হাইব্রিড জাতের ধান চাষে দেওয়া হচ্ছে ‘বিশেষ গুরুত্ব’।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি (২০২৩-২৪) অর্থবছরের আসন্ন মৌসুমে ৫০ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে ২ কোটি ১৭ লাখ টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে। যেখানে গত মৌসুমে (২০২২-২৩ অর্থবছর) উৎপাদন হয় ২ কোটি ৭ লাখ টন। তবে গত অর্থবছরের উৎপাদন তার আগের বছরের থেকে প্রায় দুই লাখ টন কম ছিল। আগের অর্থবছরে উৎপাদন হয় ২ কোটি ৯ লাখ টন।

ঘাটতি মেটাতে এবার (আসন্ন মৌসুমে) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দুই লাখ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো চাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। গত মৌসুমে বোরো আবাদ হয় ৪৮ লাখ ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে। এবার বাড়তি জমির মধ্যে এক লাখ ৯২ হাজার হেক্টরে চাষ হবে হাইব্রিড জাতের ধান। সেখানে হেক্টরপ্রতি ৪ দশমিক ৯৫ টন ফলন ধরে ৯ লাখ ৫০ হাজার টন অতিরিক্ত চাল উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

এসব বিষয়ে কথা হয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক তাজুল ইসলাম পাটোয়ারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা (কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর) উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে পরিকল্পনা তৈরি করেছি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে শিগগির এটি চূড়ান্ত হবে। এবার আমরা হাইব্রিড চাষাবাদে গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘খাদ্যনিরাপত্তা বলতে আমরা সবচেয়ে আগে চালের নিরাপত্তাকে বুঝি। সেক্ষেত্রে হাইব্রিড ধানের ফলন বেশি, দ্রুত উৎপাদন বাড়াতেও অধিক সহায়ক।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *