February 26, 2024

পৌষ মাসের হাড়কাঁপানো ঠান্ডার ভাপা পিঠে

ভাপা পিঠে মূলত আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার। পৌষ মাসের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় গুড়, নারকেল, সন্দেশের আদরে ভাপানো গরম গরম ধুপি পিঠে সারা জগতের বিস্ময়। কামড় দিলেই মিলবে নারকেল, গুড়ের মোহময়ী প্রেমের আভাস। তবে যদি পিঠে অল্প ভেঙে নিয়ে গুড় বা খেজুরের লালী ঢেলে খান তাহলে ভাপা পিঠে জিতে নেবেই পিঠে পার্বণের সেরা শিরোপা।

আমাদের দেশের সব বাড়ীতেই শীতে পিঠে বানানোর ধুম পড়ে যায়। যারা শহরে বসবাস করেন তারা অনেকেই শীতে ছুটি কাটানোর জন্য গ্রামের বাসায় যান । শীতে প্রতিটা গ্রামে যেন পিঠের উৎসব পালন হয় । একেক এলাকার এককে ধরনের পিঠের প্রচলন রয়েছে। কিন্তু ভাপা পিঠে টেকনাফ থেকে তেতুলিঁয়া বাংলাদেশের প্রতিটা ঘরে তৈরি হয় এই ঐতিহ্যবাহী পিঠে ।

কিন্তু দিন দিন আমাদের রান্না ঘর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ভাপা পিঠে । পরিবারের সবার সাথে ভেরে বা সন্ধায় রান্না ঘরে বসে মায়ের হাতের ভাপার যেন অন্য রকম স্বাদ। কিন্তু দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে,অনেকে ব্যস্ততার কারনে সময় মত গ্রামে যেতে পারে না। আজ কালকের অনেক নারীরা জানেন না কীভাবে ভাপা পিঠে তৈরি করতে হয় । অনেকে আবার ঝামেলার জন্য তৈরি করে না ভাপা পিঠে।

নগরীর প্রবিন মানুষদের সাথে কথা বললে তারা প্রশ্নের উত্তরে জানান ,আগে ভাপা তো বাড়ির খাবার ছিলো গোটা শহর জুড়ে মনে হয় দু একটা দোকান ছিলো। তাও সকাল বেলা পাওয়া যেত। কিন্তু এখন তো আর বাসায় তৈরি হয় না ভাপা দোকান থেকে কিনে খেতে হয়। বাসার মত তো আর হয় না , দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত অবস্থা ।

ভাপা এখন স্টিট ফুড খাবার হয়ে গেছে, শহরের যেকোন রাস্তার ধারে ভাপা পিঠে পাওয়া যায় । প্রতিটা মোড়ে মোড়ে ভাপার পসড়া সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা । ৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা পযন্ত দামে পাওয়া যায় ভাপা পিঠে । এতে করে অনেক নারী ও পুরুষ বাড়তী টাকা আয় করছেন ।

রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার এলাকার দোকানী রহমত বলেন ,আমার বাসা বারো রাস্তার মোড়ের কাছে । আমার বউ বারো সাস্তার মোড়ে ভাপার দোকান করে, আর আামি এখানে বসে ব্যবসা করি দুজনে ভালোই ইনকাম হয় ।

রহমত বলেন, ৫ মাস ভাপা বিক্রি করেন বাকী ৭ মাস অটো চালিয়ে সংসার চালাতে হয়। তবে এই ৫ মাস সংসার ভালো চলে বছরের অন্য মাসের থেকে।

চলুন যেনে নি কিভাবে তৈরি করতে হয় ভাপা পিঠে: যেনে নি সহজ পদ্ধতি

চালের গুঁড়ো লবন আর হালকা পানি দিয়ে চালের গুঁড়ো চেলে নিন। ছোট স্টিলের বাটিতে প্রথমে চালের গুঁড়ো এরপর নারকেল দিন, তার ওপরে পাটালি গুড় দিন (ছোট করে ভেঙে নিন), তারপর চালের গুঁড়ো দিয়ে পাতলা সাদা কাপড় দিয়ে মুড়ে নিন।
ডেকচিতে পানি গরম করে ফুটতে থাকলে তার ওপর স্টিলের বাটি বসিয়ে দিন। উপরে ঢাকা দেবেন। ৩ থেকে ৫ মিনিট পর পিঠে নামিয়ে নিয়ে গুড় অথাব খেজুরের লালী দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

রির্পোটার ,ফ্লাস নিউজ

তাহসিব আলম শাহ্

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *