February 24, 2024

কেন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেবো ,মানুষের জন্য কতটা জরূরি

মানসিক রোগের বিষয়টি গোটাবিশ্বে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হলেও বাংলাদেশে এখনও অবহেলিত। মানসিক অসুস্থতাকে দেশের অধিকাংশ মানুষ কোনো রোগ বলে মানতেও রাজি নয় । মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জরিপে উঠে আসে, দেশের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১২ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু-কিশোর মানসিক রোগে ভুগছে। মানসিক রোগীদের ৯২ ভাগই কোনো ধরনের চিকিৎসা নেন না। শুধু তাই নয় চিকিৎসকরা বলছেন, পুরুষের তুলনায় নারীদের মানসিক সমস্যা প্রকট।

চিকিৎসকদের মতে, মানসিক রোগ দুই ধরনের। তন্মধ্যে গুরুতর হলো সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার, ডিমেনশিয়া, আলঝেইমারস। সাধারণ মানসিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, শুচিবায়ু, ফোবিয়া বা ভীতি ও বিষণ্নতায় ভোগা। বাইপোলার ডিসঅর্ডার হলো দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সমস্যা।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, মানসিক সমস্যা বাড়ার কারণ হলো মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে স্টিগমা বা নেতিবাচক সংস্কার। এ কারণে প্রথম বাধাটা আসে নিজের ভেতর থেকে। অনেকের মতে, আমি কেন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেবো, আমি কি পাগল? এরপর পরিবারও মনে করে, কেন মানসিক রোগের চিকিৎসা নিতে হবে? অর্থাৎ প্রথম বাধাটা মূলত মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা থাকা।

অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল আরও বলেন, তরুণদের মন চঞ্চল ও সংবেদনশীল হয়। তারা বিষণ্নতায়ও ভোগে বেশি। তাই তরুণদের মনের যত্ন নেওয়া জরুরি। তরুণরা সমস্যায় পড়লে তাদের উচিত মন খুলে কথা বলা। তাদের কথা শুনতে হবে। আবার তরুণরাও যেন অন্যদের কথা শোনে। নিজেকে ভালোবাসার পাশাপাশি ইতিবাচক চিন্তা ও আচরণ করা দরকার।

দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় প্রতি ৬ জনের ১ জন কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন। পুরুষের তুলনায় নারীদের আক্রান্তের সংখ্যাটা প্রায় দেড় গুণ বেশি। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশু মনোরোগ বিভাগের প্রধান ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, নারীদের মানসিক সমস্যা সারাবিশ্বে বেশি। এর কারণ হলো নারীদের জিনগত গঠন, সামাজিক বঞ্চনা, স্বাধীনতা না থাকা, দারিদ্র্যতা, পারিবারিক কলহ কিংবা সাংসারিক ঝামেলা। এছাড়াও বিষন্নতা বা অন্যান্য মানসিক রোগের ক্ষেত্রে নারীদের হার পুরুষের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।

২০০৫ ও ২০১৮ সালের জরিপের তথ্য বলছে, ৫৫ বছরের বেশি মানুষের মানসিক সমস্যা সবচেয়ে বেশি। এই হার ২০ শতাংশের বেশি। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি আরও বেশি অবহেলিত হয়ে থাকে। অথচ দেশের ৪২ শতাংশ প্রবীণ গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *